ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবে যে সকল খাবার

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে । বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটায় এরকম প্রধান পাঁচটি কারণ এর মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম।  পৃথিবীতে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষ মারা যায় এবং প্রতি ২০ সেকেন্ডে দুইজন ডায়াবেটিস রোগী সনাক্ত করা হয় । তাই ডায়াবেটিস এর ভয়াবহতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরী। কারী ডায়াবেটিকস এর ভয়াবহতা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত জরুরী । ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ পুরোপুরি সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায় না। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবন যাপন করা যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন খাদ্য রাখতে হবে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।  আর সেটিও হতে হবে পরিমাণ মতো।  চলুন জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে ।

খেজুর : বাদামী বা খয়রি রঙের সুন্দর একটি ফল খেজুর।  খেজুরের কারণে অনেকেই ভেবে থাকেন ডায়াবেটিক রোগীদের এটা ঠিক নয়।  কিন্তু প্রচুর ফাইবার যুক্ত খেজুর ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।  ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ঔষধ হিসেবে কাজ করে খেজুর।  এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আঙ্গুর, কমলা লেবু ও ফুলকপির তুলনায় খেজুর শরীরে অনেক বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের যোগান দেয় ।

দুধ: ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি -এর ভালো উৎস দুধ । আর সেজন্য দুধ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য উপকারী  খাবার । অনেকের দুধ খেলে পেটে বায়ু হয় তাই আপনি চাইলে দুধের ফ্যাট অংশটি ছাড়াই টকদই ও অন্যান্য খাবার খেতে পারেন।  সকালের নাস্তায় ও আপনি রাখতে পারেন দুধ ও দুগ্ধজাত কোন খাবার ।

 তুলসী: ঔষধি গাছ তুলসী কে বলা হয় ডায়াবেটিস রোগের ইনসুলিন। গবেষণায় দেখা গেছে, তুলসী পাতা বিভিন্নভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খালি পেটে তুলসী পাতার রস পান করলে রক্তে  শর্করার মাত্রা কমে যায় । চাইলে তুলসীর রস আপনি চায়ের সাথে মিলিয়ে খেতে পারেন ।

মটরশুটি: হূদরোগ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে মটরশুটি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মটরশুঁটির রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ।প্রতিদিন 200 গ্রাম এর মত মটরশুটি খেলে হৃদরোগ টাইপ- ২ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ জনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় মোটর শুটি। যদি না থাকে তবে যখন মটরশুঁটির মৌসুম তখন বেশি করে কিনে ফ্রিজে রেখে দিন তারপর সারাবছর খাদ্যতালিকায় রাখুন এই সবজি। তেলাকুচা পাতা এবং ফল-সবজির মত খান।   মেথি  চূর্ণওখেতে পারেন। 

মেথি জল; প্রতিদিন সকালে খান মেথির জল ।রাতে এক গ্লাস জলে ১টেবিল চামচ মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই জল থেকে পরদিন সকালে খেয়ে নিন। এটি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। বৃদ্ধি পাবে হজম ক্ষমতা। শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখবে ।

করলার জুস :খেতে খুব খারাপ হলেও করলার জুস ডায়াবেটিসের মহা ঔষধ। এটি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে এটি কাজ করে ।তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক গ্লাস জুস তো খেতেই হবে ।

 নিম পাতা:নিম পাতা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ।এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।ব্লাড প্রেসার কমাতে নিমপাতা বিকল্প নেই ।   এর মধ্যে থাকা এন্টিহিস্টামিন উপাদান রক্তনালী সচল রাখে।

 তিসি : এটি এক ধরনের বীজ যার ইংরেজি নাম -ফ্ল্যাক্স সিড। আমরা এটাকে তিসি হিসেবেই চিনে থাকি ।তিসি বীজ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বীজ খুবই কার্যকর। তিসি বীজ ফাইবার ওমেগা ৩ ও ওমেগা -৬ ফ্যাটি এসিড এর ভালো উৎস। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমায় যা,ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তিসি বীজ গুঁড়া করে প্রতিদিন ২ গ্লাস পানিতে ৩চা চামচ মিশিয়ে পান করুন ।

0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.