ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার উপায়

আসসালামুআলাইকুম আশা করি সবাই ভালো আছেন।  আজকে আমি আপনাদের সাথে অতি জনপ্রিয় একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম  নিয়ে আলোচনা করব এবং সেটি ফেইসবুক। আজকাল অনেকেরই দেখা যায় ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে।  কিন্তু কয়েকটি উপায় অবলম্বন করে চললে হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচানো যায় নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। বর্তমানে ফেইসবুক একটি খুবই জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম।  অনেকেই দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন ফেসবুকে।  বর্তমানে প্রায় সকলেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।  এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছবি ভিডিও এবং অন্যান্য কনটেন্ট শেয়ার করা হয়।  এটি একটি অতি জনপ্রিয় অ্যাপ বলে হ্যাকারদের রয়েছে এর উপরে।  কিন্তু কয়েকটি উপায় অবলম্বন করে চলে হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচানো যায় নিজেদের ফেইসবুক  অ্যাকাউন্ট।  এর জন্য ফেসবুকে সেটিংস এর কয়েকটি পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই উপায়।

লগইন  সেটিং:

এর জন্য প্রথমেই  ফেসবুকে সেটিং অপশনে যেতে হবে।  সেখানে গিয়ে দেখে নিতে হবে নিজেদের ফেইসবুক একাউন্ট কোথায় কোথায় লগ ইন করা রয়েছে।  এর জন্য ফেসবুকে সেটিং অপশনে যাওয়ার পর সিকিউরিটিজ এবং লগইন অপশন এ ক্লিক করতে হবে।  এরপর একটি ট্যাব খুলে যাবে।  সেই ট্যাবে দেখা যাবে সেই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগইন করা হয়েছে।  এখানে যদি দেখা যায় অন্য কোন সিস্টেমে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগইন করা রয়েছে তা হলে তৎক্ষণাৎ সেটি লগ আউট করতে হবে।  এরপরই নিজেদের ফেসবুকের পাসওয়ার্ড বদলে দিতে হবে। 

টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন:

অন্যেরা যদি নিজেদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করার চেষ্টা করে তাহলে এই টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন এর মাধ্যমে সেটি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।  টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সিকিউরিটিজ  লগ ইন অপশন এর নিচে রয়েছে।  এই টু ফ্যাক্টর  অথেন্টিকেশন করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে।   একটা হল অথেন্টিকেশন এবং দ্বিতীয়টি হলো টেক্সট মেসেজ।  অথেন্টিকেশন অ্যাপের মাধ্যমে একটি কোড জেনারেট হয় এবং সেই কোড ভেরিফিকেশন করতে হয়।  অন্যদিকে,  টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে এস এম এস এ ক্লিক করে কন্টিনিউতে ক্লিক করতে হবে। এরপর নিজেদের মোবাইল নাম্বার এবং ফেসবুক পাসওয়ার্ড দিয়ে আবার কন্টিনিউতে ক্লিক করতে হবে। এরপর ভেরিফিকেশনের জন্য সেই কোড দিতে হবে।  এভাবেই টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন হয়ে যাবে।  

সেটিং অফ এক্সট্রা সিকিউরিটিজ:

নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্য এই সেটিং অফ একটা সিকিউরিটিজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অপশন।  এর জন্য সবার প্রথমে সিকিউরিটি এবং লগইন এ যেতে হবে।  এরপর  টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন এর নিচে এই সেটিং অফ এক্সট্রা সিকিউরিটি অপশনটি পাওয়া যাবে। এখানে ইউজারদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা আলাদা অপশন সিলেক্ট করা যায়।  প্রথম অপশন সিলেক্ট করলে ইউজারদের নোটিফিকেশন, মেসেজ এবং ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে, অন্য কেউ যদি তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করার চেষ্টা করে।  দ্বিতীয় পদ্ধতির মাধ্যমে ইউজারদের ৩ থেকে ৫ টি কন্টাক্ট নাম্বার সিলেক্ট করে রাখতে হবে । এর মাধ্যমে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলেও সেই নম্বর দিয়ে আবার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রিকভার করা যাবে।

লগ ইন:

স্ক্যামাররা বিভিন্ন ভুয়া ওয়েব সাইট তৈরি করে ফেসবুকের আইডি লগইন, ইমেইল  বা পাসওয়ার্ড চাইতে পারে।  সেখানে অবশ্যই আমাদের ইউ আর এল দেখে নেওয়া উচিত।  ফেইসবুক এর বাহিরে আর কোন শব্দ থাকলে সেই ইউ আর এল অবশ্যই পরিহার  করতে হবে।  তাই আমাদের সব সময় www.facebook.com টাইপ করে অরিজিনাল পেজ থেকে লগইন  করতে হবে। 

 

ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা কম্পিউটার:

অনেক সময় ফোন ট্যাব, কম্পিউটার কিংবা ক্রোম ব্রাউজার বিভিন্ন কোড দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে।  তখন নিজে নিজেই বার্তা যেতে থাকে বা এমন কোন পোস্ট হয়ে যায় যা আপনি দেননি। তখন সতর্ক হওয়া উচিত।  এক্ষেত্রে ESET বা Trendmicroসফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে। 

সন্দেহজনক লিঙ্কে প্রবেশ করবেন না:

হ্যাকাররা বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে একটা লিংকে প্রবেশ করতে বলে,  সেটা টাইমলাইন বা মেসেঞ্জারেই হোক না কেন। সেখানে কখনই ক্লিক করা উচিত নয়।  লিংকের সাইট গুলো বেশিরভাগই ফিশিং সাইট।  ফিশিং এর মাধ্যমে আইডি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।  আপনার অ্যাকাউন্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আপনার সকল ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারে এবং আপনার আইডি ক্ষতি করতে পারে। 

ফোনের ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন:

সব সময় ফোনের ওয়াইফাই চালু রাখবেন না।  সব সময় ওয়াইফাই চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কি আছে তা দেখে নেওয়ার চেষ্টা করে।  ওয়াইফাই এর মাধ্যমে হ্যাকাররা জানতে পারে আপনি কোন নেটওয়ার্কে সক্রিয় আছেন কিংবা কোন সাইটে আপনি কি করছেন।  তখন তারা ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় এবংফোন থেকে তথ্য চুরি  কিংবা নজরদারির মত কাজগুলো চালিয়ে নিতে পারে। 

2
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.