ল্যাপটপ ফাস্ট করার সহজ সমাধান

আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রের মধ্যে ল্যাপটপ হচ্ছে অন্যতম।  প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এর চাহিদাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  এ কারণে বাজারে দেশি বিদেশি নামী দামী ব্রান্ড বিভিন্ন কনফিগারেশন ল্যাপটপ তৈরি করছে। অফিস হোক বা বাসা বিভিন্ন কাজেই ল্যাপটপ ব্যবহার  করতে হয়।  বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় পেশা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর মূলধন হলো একটি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ। তবে এই ল্যাপটপটি যদি স্লো হয়ে যায় তখন আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ কারণে প্রথমেই আমাদের যা করতে হয় তা হলো ল্যাপটপ স্লো হওয়ার কারণ কি সেটি খুঁজে বের করা।  এবং এর সকল কারণগুলো খুঁজে বের করে ল্যাপটপের গতি বৃদ্ধির উপায় সমাধান করলেই আমাদের ল্যাপটপটির গতি বৃদ্ধি পাবে।  আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ল্যাপটপ ফাস্ট করার কিছু সহজ উপায়:

নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন:

আমরা সকলেই জানি কোনদিনই দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করার ফলে তার কর্ম ক্ষমতা হারাতে থাকে।  এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ যেমন মোবাইল বা ল্যাপটপ এর ব্যাপারে চিরন্তন সত্যি তা যেন আরও প্রকট হয়ে দাঁড়ায়।  কারণ দীর্ঘদিন যাবত ল্যাপটপ ব্যবহার করলে যন্ত্রাংশগুলো যেমন তার কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে তেমনি ল্যাপটপের কাজের গতি কমিয়ে দেয়।  তাহলে ল্যাপটপ স্লো হলে কি করব? অবশ্যই আমাদের নিয়মিত ল্যাপটপ পরিষ্কার করতে হবে।  যেন ধুলো-ময়লা ল্যাপটপে না জমতে পারে।  এছাড়াও আরেকটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন, ল্যাপটপের নিচে থাকা ফ্যানটি  ভালোভাবে ভিতরে বাতাস প্রবেশ করাতে পারে। যারা বিছানার উপরে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অধিক পরিমাণে দেখা যায়। কারণ বিছানার নরম তোষকের বা জাজিমের উপরর এটি রাখলে বাতাস প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে যেমন ল্যাপটপ টি গরম হতে থাকে তেমনি ধীরগতিতে কাজ করতে থাকে। এ কারণে সমতল টেবিলে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার করুন এবং বিছানায় ব্যবহার করতে চাইলে স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন।  সর্বোপরি আপনাকে বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখলেই হবে।

 

চিরাচরিত HDD হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করুন এবংSSD হার্ডডিস্ক ব্যবহার করুন:

বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন দামের এবং কোয়ালিটির হার্ডডিক্স পাওয়া যায়।  তবে এখনো সেই ১৯৫৬ সালের আবিষ্কার হওয়া HDD (Hard Disk Drive) ব্যবহার হয়ে আসছে।  বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের হার্ডডিক্স পাওয়া গেল এর চাহিদা একই রয়েছে।  তবে এর পিছনে কতগুলো কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল এর দাম বনাম সুবিধা! বাজারে ৩৫০০-৫০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ব্রান্ডের HDD পাবেন ১   টেরাবাইট বা ১০২৪ জিবি  স্টোরেজ সম্পূর্ণ হার্ডডিক্স। যা দামের তুলনায় অধিক তথ্য জমা রাখতে সাহায্য করে।

 তবে এই HDD আপনার ল্যাপটপের গতি অনেক কমিয়ে দেয়।  কারণ এটি একদিকে যেমন পুরনো প্রযুক্তি তেমনি ধীরগতির। যা ল্যাপটপের ডাটা ট্রান্সফার করার গতি অনেক কমায় পাশাপাশি  স্টার্ট বা শাটডাউন হতে দেরি করে।  অপরদিকে SSD  হল বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন স্টোরেজ ড্রাইভ। এখানে কোন মুভিং পার্ট না থাকায় কাজ করে দ্রুত। এবং HDD  অপেক্ষা কয়েক গুণ বেশি দ্রুত ডাটা রিড করতে সক্ষম।  আপনার ল্যাপটপটি ফার্স্ট করতে হলে আপনি আপনার ল্যাপটপে একটি SDD ৪৫০০-৬০০০ টাকার মধ্যে অনায়াসে লাগিয়ে নিতে পারবেন।  তবে বর্তমান সমাজে সকলের বাজারে পাওয়া যায় সেগুলোর অধিকাংশই SDD  ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।  যদি আপনার ল্যাপটপটি HDD  তাহলে অবশ্যই একটি SSD  ব্যবহার করুন।

 

RAM পরিবর্তন করুন :

ল্যাপটপের গতি স্লো হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো RAM.কারণ যদি আপনি  যদি ভারী প্রোগ্রাম রান করাতে চান তাহলে আপনার কম্পিউটারের RAM টি একটু বড় হতে হবে এটাই স্বাভাবিক। সেখানে যদি আপনি অল্প RAM সম্পন্ন ল্যাপটপে সেই কাজটি করাতে চান তাহলে আপনার বিপত্তির আর শেষ থাকবে না। এ কারণে আপনার ল্যাপটপের RAM যদি ৪ জিবি হয়ে থাকে তাহলে তা পরিবর্তন করে  ৮ জিবি করুন কারন।  তাহলে আপনি যেকোনো কাজ করে মোটামুটি একটা ভালো পারফর্মেন্স পাবেন। যা আপনাকে সন্তুষ্টি দিতে সক্ষম।

 

অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় এনিমেশন বন্ধ করুন :

ল্যাপটপের অপারেটিং সিস্টেম বিভিন্ন বিষয়বস্তু নজরকাড়া করার জন্য অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যানিমেশন ব্যবহার করতে হয়। যেগুলো আদৌ কোনো প্রয়োজন নয়।  তবে আপনি যদি পারফরম্যান্স অপেক্ষার সৌন্দর্য কে প্রাধান্য দেন তাহলে বলব এটা আপনার জন্য ঠিক আছে।  কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এগুলো আপনার ল্যাপটপকে ধীরগতি করে দিতে পারে।  অতিরিক্ত অ্যানিমেশন ল্যাপটপের প্রচুর পরিমাণ  রিসোর্স দখল করে রাখে।  যার ফলে আপনার ল্যাপটপটি ধীরগতিসম্পন্ন হয়ে উঠে।  এর থেকে পরিত্রান পেতে এবং ভালো পারফর্মেন্স পেতে অবশ্যই আপনাকে এনিমেশন গুলো বন্ধ করে দিতে হবে।  আপনি যদি উইন্ডোজ ১০  এর ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন এবং এই অতিরিক্ত এনিমেশন গুলো বন্ধ করতে চান তাহলে প্রথমে  “view advanced system settings” সার্চ করতে হবে।  এরপরে  সেটিংস এর অপশন গুলো থেকে “ adjust  for best performance” সিলেক্ট করে দিন ব্যাস কাজ শেষ। 

 

ল্যাপটপ স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ ম্যালওয়্যার:

আমরা যারা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ ব্যবহার করি তারা সকলেই জানি ভাইরাস,ম্যালওয়্যার বা  ট্রোজান সম্পর্কে।  ল্যাপটপ হঠাৎ করে  স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এসকল ভাইরাসের আক্রমণ।  কারণ অনেক ভাইরাস আছে যেগুলো কম্পিউটারের সরাসরি ক্ষতি করে যা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।  কিছু কিছু ভাইরাস সিস্টেমের ভিতরে কাজ করে যা স্বাভাবিক অবস্থায় বোঝা সম্ভব নয়।  এর কারণে ল্যাপটপ স্লো হয়ে যেতে পারে।  তাই ল্যাপটপ ফাস্ট করতে, ডেটা সুরক্ষিত রাখতে এবং বিভিন্ন ক্ষতি এড়াতে ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন। কয়েকটি ভালো মানের এন্টিভাইরাসের নাম হল- Kaspersky antivirus, McAfee Antivirus plus, Norton Antivirus plus, Bitdefender antivirus, webroot secureAnywhere antivirus ইত্যাদি আরও বিভিন্ন ধরনের এন্টিভাইরাস বাজারে পাওয়া যায়।  এগুলোর যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারেন। 

 

অব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডিলিট করে দিন:

আমাদের সকলের ব্যবহার এবং প্রয়োজন বিভিন্ন হওয়ায় সবার ল্যাপটপ দেখা যায় অনেক অ্যাপ্লিকেশন থাকে যা তার প্রয়োজনীয় না এ সকল প্রোগ্রাম গুলো ডিলিট করে দিন কারণ এগুলো আপনার ল্যাপটপের গতি কমানোর জন্য অনেকাংশে দায়ী। 

 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করে দিন স্টার্টআপ অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে:

ল্যাপটপ অন অফ করতে বেশি টাইম লাগার কারণ হলো স্টার্টআপ অ্যাপ্লিকেশন। স্টার্টআপ অ্যাপ্লিকেশন হলো পিসি অন করলেই যেগুলো অটোমেটিক চালু হয়ে যায় সেগুলো।  অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে অদরকারি গুলো বন্ধ করে দিন তাহলে ল্যাপটপ চালু বন্ধ করতে সময় লাগবে না এবং ল্যাপটপ ফাস্ট হবে আগের তুলনায় অনেক বেশি। 

 

আপনি উপযুক্ত নির্দেশনা গুলো মেনে চললে আপনার ল্যাপটপটি হয়ে উঠবে অনেকগুণ ফাস্ট এবং আপনি আপনার ল্যাপটপ ব্যবহার করে অনেক গুণ ভালো পারফরম্যান্স পেতে পারেন।

0
0

Leave a Reply

Your email address will not be published.